বসন্তের বাতাসে হিল্লোল তুলেছে আবিরের গন্ধ, রঙিন দেশের অলি-গলি
‘খেলব হোলি, রং দেব না, তাই কখনও হয়…’ না, এক্কেবারে হয় না। আর তাই তো রঙের খেলায় মেতে রঙিন হয়ে উঠেছে গোটা দেশ। দুঃখ-যন্ত্রণা, মলিনতা মুছে আজ আকাশে-বাতাসে শুধুই আবিরের গন্ধ। আজ বসন্ত জাগ্রত দ্বারে। তাই শুধুই রাঙিয়ে দিয়ে যাওয়ার উৎসবে মাতোয়ারা দেশের প্রতিটি অলি-গলি।
বৃন্দাবনের বিধবা সমাজ থেকে সীমান্তে বিএসএফ জওয়ান, এদিন সকলের মনেই লেগেছে ফাগুনের রং। ‘রং বরসে…’ সুরে নাচের তালে পা মিলিয়েছে আট থেকে আশি। টলিপাড়ায় প্রিয়াঙ্কা সরকার, অপরাজিতা আঢ্য থেকে বলিউডের তারকারা সকলেই রঙিন হোলির রঙে। সীমান্ত পেরিয়ে আবার নেপালও মেতেছে দোল উৎসবে। খাতায়-কলমে বৃহস্পতিবার দোল এবং শুক্রবার হোলি হলেও গোটা দেশ এদিন থেকেই মেতে উঠেছে এই রঙের পরবে।
এদিন সকাল থেকেই শহর কলকাতার আকাশ পরিষ্কার। তাই আবির, পিচকিরি হাতে সকাল সকালই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েছে খুদেরা। বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়েও দোল উৎসব পালন করছেন সাধারণ মানুষ। রাজনীতি ভুলে অন্য মেজাজে ধরা দিয়েছেন নেতা-মন্ত্রীরাও।
তবে দোল বলতেই বাংলার যে জায়গা চোখের সামনে ভেসে ওঠে, তা অবশ্যই শান্তিনিকেতন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রিয় ভূমে আজ ফাগুনের হাওয়া। প্রতিবারের মতো এবারও বিশ্বভারতীর আনাচে-কানাচে রঙিন হয়ে উঠেছে। কখনও ভেসে আসছে লালন ফকিরের গানের সুর তো কখনও বর্ণময় হয়েছে খোয়াইয়ের পাড়। ‘খোল দ্বার খোল…’। রবি ঠাকুরের এমন ডাকেই মনের সমস্ত অন্ধকার দূর সরিয়ে আজ শুধুই আনন্দ করার সময় শান্তিনিকেতনে।
রাধা-কৃষ্ণের লীলাক্ষেত্র মধুরা-বৃন্দাবনে ভক্তদের আনন্দের বাঁধ ভেঙেছে। বেরিয়েছে ফুল ও আবিরের রঙিন শোভাযাত্রা। রঙের খেলা শুরু হবে রাত থেকেই। মায়াপুরের চেহারাটাও একটু অন্যরকম। ইস্কন মন্দিরে দেশি-বিদেশি ভক্তের ঢল নেমেছে। ফুলের সাজে সেজেছে রাধা-মাধবের মূর্তি। এদিন ইস্কনে ভোগের এলাহি আয়োজন করা হয়েছে ভক্তদের জন্য। ঝাড়গ্রামে আবার দোল উপলক্ষে তৈরি হয়েছে আস্ত একটি থিমের মণ্ডপ।
তবে এ উৎসবে যাতে কুকুর-বিড়ালের মতো নিরীহ প্রাণীদের কোনও ক্ষতি না হয়, সে নিয়েও সকলকে সতর্ক করছেন ছোট ও বড়পর্দার তারকা। শুধু লাল-নীল-হলুদ রঙের বাহারে নয়, প্রতিটি মানুষের মনও এভাবেই রঙিন উঠুক। পরস্পরের প্রতি সম্পর্ক হোক অটুট নির্ভেজাল। প্রতি বছর যেন এ বার্তাই নিয়ে আসে
